ইফতারের দোয়া

Rate this post

রমজানের অন্যতম ইবাদাত হল ইফতার অর্থাৎ পবিত্র রমজান মাসে গোটা বিশ্বজুড়ে সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সংযমের সঙ্গে ইবাদত করেন। এই মাসে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় প্রত্যেক মুসলিম ধর্মাবলম্বী সুস্থ মানুষেরা রোজা রেখে থাকেন। আল্লাহর নির্দেশ পালনে সারাদিন রোজা পালনের পর সূর্যাস্তের সাথে সাথে একদমই দেরি না করে ইফতার করতে হয়। তাড়াতাড়ি ইফতার করা কুন্নাত ও কল্যাণের আমল। এই কল্যাণ পাওয়ার জন্য সঠিক সময়ের সাথে সাথে বিশেষ দোয়া ও নিয়ম মেনে ইফতার করা আবশ্যক।

হদিসে বর্ণিত আছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ বলেন, ‘যিনি ইমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রোজা রাখবে মহান আল্লাহ তালা তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০১; তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৩)

ইফতারের আগে ও পরের দোয়া

ইফতারের আগের দোয়া :

بِسْمِ الله – اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ

বাংলা উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযক্বিকা আফত্বারতু।

বাংলা অর্থ : ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

ইফতারের সময় যে দোয়া পড়বেন :

اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ. رواه ابن ماجه، وقال البوصيري في الزوائد : هذا هديث صحيح، ورجاله ثقات.

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন। ’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার সেই রহমতের উসীলায় প্রার্থনা করছি যা সকল বস্ত্ততে পরিবেষ্টিত, তুমি আমাকে মাফ করে দাও।-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১২৫, হাদীস : ১৭৫৩

ইফতারের সময় যে কাজগুলি করণীয় :

১. সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা।

২. ইফতারের সময় অন্য কাজে ব্যস্ত না হয়ে ইফতার করা।

৩. ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৪. খেজুর, সাদা পানি কিংবা দুধ দিয়ে ইফতার করে মাগরিবের নামাজ জামাতে পড়া।

৫. ইফতারে দেরি করে জামাত তরক না করা।

৬. ইফতারের সময় ভারী খাবার না খাওয়া। মাগরিবের নামাজ আদায় করে তৃপ্তিসহ পরিমাণ মতো খাবার খাওয়া। আর তাতে শরীর থাকে সুস্থ ও সবল। ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার খেলে জামাআত ও ইবাদত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

ইফতারের পরের দোয়া :

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ : ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

বিশেষ করে মনে রাখা দরকার :

ইফতারের কিছু সময় আগে যদি ইফতারি সামনে নিয়ে বসে তাসবিহ-তাহলিল, তাওবাহ-ইসতেগফার, দোয়া-দরূদ পড়ার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করালে ইফতারের আগ মুহূর্ত থেকে ইফতার করার সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার যে কোনো দোয়া কবুল করে নেন।

মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইফতারের আগে তাওবা-ইসতেগফার করা, ইফতারের করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত নিয়মে ইফতার করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

Related Posts

error: Content is protected !!