দোয়া কুনুত অর্থসহ আরবি থেকে বাংলা উচ্চারণ ও আমল

Rate this post

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আপনারা কেমন আছেন, আশা করি আপনারা প্রত্যেকেই ভালো আছেন। বন্ধুরা আজকে আমরা আপনাদের দোয়া কুনুত এর অর্থসহ আরবি থেকে বাংলা উচ্চারণ ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই পোষ্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেব।

বন্ধুরা, দোয়া কুনুত হলো এক ধরনের দোয়া। যা এশার নামাজের পর ওয়াজিব বিতরের নামাজে পড়তে হয়। এবং এই দোয়াটি তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর এর সাথে সূরা মিলিয়ে পড়ে তাকবীর বলে হাত বেঁধে তার পর পড়তে হয়। এর অর্থ হল দোয়া কুনুত বিতর নামাজে পাঠ করা ওয়াজিব।

ঘুম থেকে ওঠার দোয়া জানতে এখানে ক্লিক করুন

জামে’ আত-তিরমিজি শরীফ, সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত তিনটি হাদিস কে বিতর নামাযে দোয়া কুনুত বলা হয়।

তো চলুন বন্ধুরা দেখে নেওয়া যাক, নিচে দেওয়া দোয়া কুনুত এর বাংলা উচ্চারণসহ অনুবাদ ও পড়াবার বিস্তারিত নিয়ম ও মাসয়ালা সম্পর্কে

আরবি উচ্চারণ

اَللَّمُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্‌তাঈ’নুকা, ওয়া নাস্‌তাগ্‌ফিরুকা, ওয়া নু’’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ’, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকানুসল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ, – ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা – আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্‌ফারি মুলহিক্ব।

দোয়া কুনুত অর্থ

হে আল্লাহ! সত্য সত্যই আমরা তোমারই সাহায্য চাই এবং ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি ও তোমারই কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিতেছি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না অর্থাৎ আমরা তোমায় কেউ অস্বীকার করি না। যাহারা তোমার অবাধ্য আমরা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ও সর্বদা তাদের থেকে দূরে থাকিতেছি। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই উদ্দেশ্যে আমরা নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই থাকি ও সর্বদা এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি অর্থাৎ কৃপা ভিক্ষা করি এবং তোমার আযাবকে অর্থাৎ শাস্তি প্রদান-কে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত অর্থাৎ সত্য সত্যই কাফেরগণ শাস্তি ভোগ করিবে।

বন্ধুরা আশা করি আপনারা দোয়া কুনুতের আরবি উচ্চারণ বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন বন্ধুরা আপনারা যদি আরো ইসলামিক দোয়া জানতে চান তাহলে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখে নিতে পারেন।

বন্ধুরা আমাদের ওয়েবসাইটের ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন এবং আমাদের সাথে সদা সর্বদা যুক্ত থাকবেন।

বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়তে পারলে কি করবেন?

বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়া ওয়াজিব। তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলিয়ে তাকবির বলে হাত বেঁধে পড়তে হয়। তবে দোয়ায়ে কুনুত হুবহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত শব্দে হওয়া ওয়াজিব নয়। বরং মুসল্লি অন্য কোনো দোয়াও করতে পারেন। হাদিসের শব্দের বাইরে কিছু বাড়াতেও পারেন। এমনকি যদি কোরআনের যেসব আয়াতে দোয়া আছে, এমন কিছু আয়াত পড়েন— সেটাও জায়েজ আছে।

দোয়া কুনুত সম্পর্কে ইমাম নবি কি বলেন?

অগ্রগণ্য মাজহাব মতে, কুনুতের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তাই যেকোনো দোয়া পড়লে— এর দ্বারা কুনুত হয়ে যাবে; এমনকি দোয়া সম্বলিত এক বা একাধিক কোরআনের আয়াত পড়লেও কুনুতের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে। তবে হাদিসে যে দোয়া এসেছে সেটা পড়া উত্তম। (আল-আজাকার, পৃষ্ঠা : ৫০)

বিতর নামাজ কি এবং পড়ার নিয়ম গুলি কি কি?

বিতর নামাযের পদ্ধতি নিয়ে ওলামায়ে কেরামদের মতভেদ রয়েছে। ঐক্যমতে তিন রাকআত বিতর নামায পড়তে হয়। এর শেষ রাকআতে রূকুর পূর্বে বা পরে দু‘আ কুনূত পড়া আবশ্যক।
বিতর নামাজ বা বিতর সালাত (সালাতুল বিতর) হল বিজোড় সংখ্যক রাকআত বিশিষ্ট নামাজ যেটি আমার মুসলিম ভাই-বোনেরা রাতে ইশার নামাজের পর পড়ে। ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময় বিতর নামাজ পড়া যায়।বিতর শব্দের অর্থ- বিজোড়। ইশার নামাজের পর এক থেকে এগারো রাকআত পর্যন্ত বিজোড় সংখ্যক রাকআত বিতর নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

দোয়া কুনুতের ইতিহাস

আহমদ বিন হাম্বল, মুহাম্মাদ ইবনে ইসা আত-তিরমিজি এবং আবু দাউদের বর্ণনা থেকে জানা যায় হাসান ইবনে আলী রাঃ এই দোয়াটি মুহাম্মাদের (সা.) কাছ থেকে শিখেছিলেন। দাউদ আরো বলেছেন যখন মুসলমানদের উপর কোন বিপদ অথবা বিপর্যয় আসতো তখন মুহাম্মদ (সা.) দোয়া কুনুত পড়তেন। “আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা, ওয়া নাস্তাগফিরুকা রয়েছে” মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা (৬৯৬৫)

Related Posts

error: Content is protected !!